শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

আনোয়ারায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যা

আনোয়ারা

আনোয়ারা উপজেলায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

১০ মে রোববার, সকালে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের নবী হোসেন মেম্বারের বাড়িতে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হালিমা আক্তার মুন্নি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সির বাড়ির মো. ইসহাকের মেয়ে। তার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভোররাতে হালিমার স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ফোন করে তার পরিবারকে জানান, মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্বজনদের দাবি, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর পারিবারিকভাবে হালিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসা হলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ পরিবারের। নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের বাবা মো. ইসহাক বলেন, কয়েক দিন আগে শ্বশুরের অসুস্থতার খবর পেয়ে মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে যায়। সকালে জামাই ফোন করে আত্মহত্যার খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহ দেখতে পান। তার দাবি, গলায় রশি থাকলেও হালিমার পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ক্লিক/এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত