শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার পাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

৮ মার্চ, রোববার বন্দরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান।

সভায় জানানো হয়, বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাংকারিং কার্যক্রম নিশ্চিত করতে তারা সবসময় সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

সভায় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিকাংশ জাহাজের বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে কম। তিনি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থাপিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ নিয়মিতভাবে বন্দরে আসছে। বর্তমানে কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি ও দুটি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা আসার পথে রয়েছে।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোও নিয়মিতভাবে বন্দরে ভিড়ছে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এসব জাহাজের ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো বাধা নেই। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন–এর প্রতিনিধিরা।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত