নিজেদের চিরশত্রু ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আলেক্সান্দার গ্রানোভস্ক (৩০) নামের এক নাগরিককে ১৩ বছর ৫ মাস কারাবাসের সাজা দিয়েছেন ইসরায়েলের একটি আদালত। গতকাল বুধবার এই সাজা দিয়েছেন ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় জেলা লোদ-এর জেলা আদালত।
ত্রিশের কোঠায় থাকা গ্রানোভস্কির বিরুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির পাশাপাশি দেওয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখা, অন্তত ৯টি গাড়ি ভাঙচুর ও জ্বালয়ে দেওয়া, ইসরায়েরের সাবেক সেনাপ্রধান ও পরে মন্ত্রী বেনি গান্টজের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ এবং ইরানি এক গুপ্তচরের কাছ থেকে অর্থগ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৯ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্রাণভস্কিকে যে সাজা প্রদান প্রদান করা হয়েছে, তা ইসরায়েলের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এ ধরনের মামলায় সবচেয়ে কঠোর সাজার নিদর্শন। এর আগে কেউ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে এত দীর্ঘ মেয়াদে কারাবাসের সাজা পায়নি।
[ad_OwixA1az]আদালত নিজেও তা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেছেন, “এই কঠোর শাস্তির উদ্দেশ্য হলো, ইসরায়েলে যারা অর্থের বিনিময়ে শত্রুপক্ষের হয়ে কাজ করতে চায়— তাদের এই বার্তা দেওয়া যে, ধরা পড়লে তাদেরও এমন দীর্ঘ ও অসহনীয় কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।”
উল্লেখ্য, ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত দু’বছরে বহুসংখ্যক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহভাজনরা সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়া—বিশেষ করে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম—এর মাধ্যমে ইরানি এজেন্টদের সাথে প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে।
ইরানেও ইসরায়েরের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানি আইনে গুপ্তচরদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল, আনাদোলু এজেন্সি
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
