চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি চট্টগ্রামের জলপথের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার দুপুরে নগরীর রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল নিয়ে এ অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।
[ad_OwixA1az]আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই উদ্যোগটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বর্ষা এলেই নগরীতে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। তাই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের খাল ও জলপথের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি নেদারল্যান্ডসের উদাহরণ দেন। আমির খসরু বলেন, একসময় দেশটির অনেক খাল ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে এখন নৌযান ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামেও এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরীর জলপথগুলো কীভাবে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যায়, সরকার তা নিয়ে কাজ করতে চায়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীর ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পানি সরবরাহে নতুন পিপিপি মডেল পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এ দুই এলাকায় বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। নতুন মডেলের মাধ্যমে এসব এলাকায় নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নগরীর অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
