আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০ লিটার ডিজেল পাঠানোর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীদের দেওয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়, পলাতক সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষ থেকে হাসপাতালের জেনারেটরের জন্য ওই তেল পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচয়হীন ব্যক্তির আনা ওই তেল তারা গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে তেল কেনার প্রমাণ হিসেবে যে ক্যাশমেমো ছড়ানো হয়েছে, সেটিও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভ্যানে করে এক ড্রাম তেল আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তেলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের সঙ্গে ‘মেসার্স শাহানা অয়েল অ্যান্ড মোটর পার্টস’-এর ৩২৮ নম্বর ক্যাশমেমোর ছবি দেওয়া হয়। এতে ২০০ লিটার ডিজেলের দাম ২৩ হাজার টাকা, ড্রামের দাম ২ হাজার টাকা এবং গাড়িভাড়া ৩০০ টাকা উল্লেখ করা হয়।
[ad_OwixA1az]পোস্টে দাবি করা হয়, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে দেওয়া জেনারেটরের জন্য তাৎক্ষণিক ২০০ লিটার ডিজেলের ব্যবস্থা করেছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে এর সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্যাশমেমোতে যে দোকানের নাম রয়েছে, সেই মেসার্স শাহানা অয়েল অ্যান্ড মোটর পার্টসের মালিক মো. হেলাল দাবি করেছেন, তাঁর দোকান থেকে ওই তেল বিক্রি করা হয়নি।
মো. হেলাল বলেন, ‘দুপুরে আমি দোকানে ছিলাম না। আমার ভাইয়ের কাছ থেকে দুজন লোক কৌশলে একটি খালি ক্যাশমেমো নিয়ে যায়। তারা কোনো পরিচয়ও দেয়নি। আমরা কারও কাছে তেল বিক্রি করিনি। পরে ফেসবুকে আমাদের মেমোতে তেল বিক্রির হিসাব দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি।’
তিনি দাবি করেন, তাঁদের দোকানের খালি ক্যাশমেমো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা বিএনপি নেতা আক্তার নবী বলেন, হাসপাতালের জ্বালানি সংকটের খবর গণমাধ্যমে জানতে পেরে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ৬০ লিটার জ্বালানি তেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২০০ লিটার তেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অন্য কেউ তেল পাঠিয়েছে কি না, আমি জানি না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নাম-পরিচয় গোপন রেখে কেউ একটি তেলের ড্রাম পাঠিয়েছিল। পরিচয় না দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ করেনি।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভ্যানে এক ড্রাম তেল নিয়ে একজন ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তিনি তেল সরবরাহকারীর নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী কারো কোন অনুদান বা সহযোগিতা নিলে সেটা পরিচয় উল্লেখ করে কাগজের মাধ্যমে গ্রহণ করা। এ কারণে আমরা তেল গ্রহণ করিনি। পরিচয় না জানা পর্যন্ত তেল নিতে পারব না—এ কথা জানিয়ে দেওয়ার পর প্রথমে নিয়ে আসা ভ্যান চালক পরে সাথে আসা কিশোর কৌশলে হাসপাতাল থেকে ছটকে পড়ে। তারা নিজেরাই ড্রামটি হাসপাতালের গ্যারেজে রেখে চলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকালে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। পরে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আক্তার নবীর সঙ্গে জেনারেটরের তেলের বিষয়ে কথা হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ৬০ লিটার তেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে আরও একটি ৩০ কেভি ক্ষমতার জেনারেটর দেওয়া হয়। তবে জ্বালানি তেলের নিয়মিত বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর দুটি প্রয়োজন অনুযায়ী চালানো নিয়ে সংকট রয়েছে।
সম্প্রতি তীব্র বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের পোস্ট ও পাল্টা বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
[ad_ujVHoYsI]
