মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

খুলশীতে মাদক কারবারি ধরতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, দুই এসআইসহ আহত ৭ পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুলাই, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলশী আমবাগান রেললাইনসংলগ্ন তরুণ সংঘ মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মমিনুল ইসলামসহ সাত পুলিশ সদস্য।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও এসআই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আমবাগান এলাকায় মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর হঠাৎ হামলা চালায় একদল কিশোর গ্যাং সদস্য। তারা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।

এতে দুই এসআইসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

[ad_OwixA1az]

ঘটনার পর ডবলমুরিং থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম ও চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, আহতরা চমেকের অপারেশন থিয়েটারে।

পুলিশের দাবি, খুলশী ঝর্ণাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আলমগীর। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীরের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে তিনি ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে গত ১৫ মে রাতে ঝর্ণাপাড়া এলাকায় দলবল নিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠে আলমগীরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে আলমগীরের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার পর আলমগীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গত ১৮ মে পাহাড়তলী ঝর্ণাপাড়া এলাকায় তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আলমগীর ও তার সহযোগীদের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে ঝর্ণাপাড়া ও সরাইপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের রাত ৯টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য করা এবং নির্দেশ অমান্য করলে মারধরের অভিযোগও করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীরের পরিবারের একাধিক সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার মা রেনু বেগম ও ভাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের একাধিক সদস্য অতীতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি মো. জাহেদুল আলম বলেন, ‘আলমগীরকে গ্রেপ্তারে শতভাগ চেষ্টা চলছে। সে ঝর্ণাপাড়া এলাকায় থাকে। ওই এলাকাটি ডবলমুরিং থানার আওতাধীন।’ তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত