চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। অটোরিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ঋণসংক্রান্ত স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিতে গিয়ে চাচাতো ভাবি এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)-কে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
১৫ জুন, সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম নগরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন এনি, তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী এবং পাঁচ বছরের ছেলে পিয়াস। হামলায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি।
[ad_OwixA1az]সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ট্রিপল নাইন থেকে খবর পাওয়ার পর আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের বারান্দা ও কক্ষ থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, নিহতের চাচাতো দেবর রিমন বড়ুয়া অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই ঋণ সুদসহ পরিশোধের বিষয়টি একটি স্ট্যাম্পে লিখিত ছিল। কিন্তু নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে ওই স্ট্যাম্প চুরি করার পরিকল্পনা করেন রিমন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে রিমন বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে এনি বড়ুয়া ঘরের পেছনের দরজা খুলে বাইরে এলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসে কিশোরী প্রিয়ন্তী। তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পালানোর সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বাড়ির পেছনের খালে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যায় রিমন। অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে রোববার রাতে পটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং পটিয়ার একটি ডোবা থেকে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো উদ্দেশ্য, পারিবারিক কলহের বাইরে কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ধার-দেনা ও ঋণসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া রিমন বড়ুয়াকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
