চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক ছাত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের উদ্ধার নির্দেশের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ ওই ছাত্রীর বর্তমান নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২০)। ধর্মান্তরের আগে তার নাম ছিল তন্নী দে বিপন্না। তিনি সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ সালে চকবাজার থানার পুলিশের মাধ্যমে তাকে তার বাসা থেকে জোরপূর্বক, তার মতের বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়া সত্ত্বেও তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার হিন্দু মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তিনি সহপাঠী ও সিনিয়রদের কাছে অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তার পরিবার তাকে হত্যা করতে পারে বা ভারতে পাচার করে দিতে পারে। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমাকে উদ্ধার করুন, আমাকে তারা মেরে ফেলবে, ভারতে পাচার করতে পারে।” এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে জারার বাবা সঞ্জিত কুমার দে ও মা তপশী দে-কে আসামি করে প্রথমে ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় কক্সবাজারের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় মামলা করেন।
আদালত গত ৬ এপ্রিল ঈদগাঁও থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জারাকে উদ্ধার করে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান উদ্ধার অভিযান দেখা যায়নি বলে দাবি করেন বাদী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জারা ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং গত ১ মার্চ ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
বাদীর অভিযোগ, ধর্মান্তরের বিষয়টি জানার পর তার পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং নানা উপায়ে তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। গত ২৮ মার্চ ঈদগাঁওয়ের জাগিরপাড়া এলাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে গুম করার পরপরই জারা আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধার করার অনুরোধ জানায়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সময় যত যাচ্ছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ততই বাড়ছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই অচিত কুমার রায় বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
তবে বাদীর দাবি, পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিলে ঘটনার রহস্য দ্রুত উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জারাকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা না হলে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এসএস



