রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন সাংগ্রাই জল উৎসব।

১৫ এপ্রিল, বুধবার সকাল ১০টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সাংগ্রাই কেবল একটি উৎসব নয়, এটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।

সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ হাজারো দর্শক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেতার শিল্পী সানুচিং মারমা ও সাচিং উ মারমা।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল মারমা তরুণ-তরুণীদের জল খেলা। একে অপরকে পানি ছিটিয়ে তারা বিদায় জানায় পুরনো বছরের দুঃখ-বেদনা, আর আনন্দের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছর। পাশাপাশি মঞ্চে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত, যা দর্শকদের উৎসবমুখর করে তোলে।
এদিন আয়োজন করা হয় সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলা। উৎসবে অংশ নিতে আসা তরুণ-তরুণীরা জানান, সাংগ্রাই তাদের প্রাণের উৎসব—এদিনের আনন্দে তারা নতুন বছরকে স্বাগত জানান উচ্ছ্বাসে।
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল মূল জল উৎসব হলেও ১৩ এপ্রিল থেকেই বিহার প্রাঙ্গণে বসেছে বৈশাখী মেলা। মেলায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
একইসঙ্গে নববর্ষ উপলক্ষে বিহারে পালন করা *হয়েছে* নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যেমন বৌদ্ধ পূজা, বুদ্ধ মূর্তির স্নান এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান জানিয়ে স্নান করানো।
সব মিলিয়ে চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে সাংগ্রাই উৎসব যেন হয়ে উঠেছে আনন্দ, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
এসএস



