দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ (রোববার) থেকে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এর আগে ৪ এপ্রিল, শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে বগুড়া, পাবনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, নওগাঁ, যশোর, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, ঢাকা, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুর জেলায় কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। অন্য উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের তত্ত্বাবধানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে—তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক।
তিনি জানান, টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্র, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম চলবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণ করে জুলাই মাসের মধ্যে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ করা হবে।
আইসিইউ সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ বিবেচনায় অতিরিক্ত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করতে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এসএস



