বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১২ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, বাকি তিনটি পৌঁছাবে এই সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক

হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১৫টি জাহাজের বেশিরভাগই চট্টগ্রাম বন্দর এ পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইরান এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এর হামলার আগে এসব জাহাজ যাত্রা শুরু করায় এখনো সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২টি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো ও পথে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টিতে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকারসহ অন্যান্য উপকরণ।

বন্দর সূত্র জানায়, কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ এলপিজি নিয়ে রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা সোহার বন্দর, ওমান থেকে আনা হচ্ছে।

এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ যথাক্রমে বুধবার ও সোমবার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

তবে ‘লিব্রেথা’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে পরবর্তী চালানগুলো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়েছে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, চারটি এলএনজিবাহী জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিব্রেথা’ নামে আরেকটি জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে এবং সেটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত