শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ, ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাটহাজারীতে দুর্বৃত্তের হামলার পর হালদা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া তরুণ মো. সাব্বির (২১)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার পশ্চিম পাশের ছায়ার চর এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

মো. সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি আব্দুল মান্নান ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি ছিলেন ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সাব্বির তার বন্ধু মো. মারুফকে সঙ্গে নিয়ে রামদাসহাটে একটি ওরশ মাহফিলে অংশ নিতে যান। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলার মুখে দু’জনই হালদা নদীতে ঝাঁপ দেন। মারুফ আহত অবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম হলেও সাব্বির নিখোঁজ হন।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ওরশ অনুষ্ঠানে বন্ধুদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সাব্বিরের মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর তিনি নদীতে ঝাঁপ দিলে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

সাব্বিরের চাচা মো. মোতালেব বলেন, “সারাদিন কাজ শেষে বন্ধুকে নিয়ে ওরশে গিয়েছিল। সেটাই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কখনো ভাবিনি।”

প্রতিবেশী মো. ইলিয়াস জানান, মারুফের ভাষ্যমতে দুর্বৃত্তদের আঘাতের মুখে তারা নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে সাব্বির আর জীবিত ফিরে আসেননি।

হালদার অস্থায়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রমজান জানান, তিন দিন ধরে নদীতে টহল ও তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে বালু তোলার সময় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। পরে সকাল পৌনে ৯টার দিকে নদীর মাঝখান থেকে সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত