ফটিকছড়িতে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি থাকা এবং মনোনয়নপত্রের হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তার মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন।

আপিলে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় সরোয়ার আলমগীর নিজের আর্থিক দায়, বিশেষ করে ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন। নির্বাচন আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ঋণ খেলাপি হলে বা হলফনামায় মিথ্যা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার মনোনয়ন বাতিলযোগ্য।
অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিনের অভিযোগ, সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বকেয়া ঋণ থাকার তথ্য রয়েছে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন হয়েছে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।”
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আপিলটি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ খেলাপি ও হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, এ অভিযোগের বিষয়ে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।
এসএস



