চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১১নং সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান জুলাই শহীদ ওয়াসিমসহ তিন খুনের মামলার অন্যতম আসামি ও আ’লীগ ক্যাডার জয়নাল আবেদীন চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার রাতে নগরীর একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সূত্র জানায়। ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে এবং ঐ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন শহীদ ওয়াসিমসহ তিনজন। এতিন হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি জয়নাল আবেদীন চেয়ারম্যান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর অতি গোপনে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, গত বছর ১৬ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় মুরাদপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওয়াসিমসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সহযোগীদের নাম উল্লেখ করা হয়। জয়নাল আবেদীন ওই মামলার অন্যতম আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই এলাকায় নানা অভিযোগ থাকলেও হত্যা মামলার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ জোরদার হয়।
এ বিষয়ে পুলিশের ফটিকছড়ি থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “আটক ব্যক্তি হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের মামলার আসামি। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। রিমান্ড চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ও পলাতক থাকা অবস্থায় কারা সহযোগিতা করেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে সুয়াবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আটকের খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএস



