শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কেটে দিলো ৮’শ পেঁপে গাছ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটিতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ফলজ পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি গাছ কেটে ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের দাবি, পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএসের এক কথিত কালেক্টর চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাতের আঁধারে ফলধরা গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

৩১ জুলাই, শুক্রবার ভোরে রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গাপানির নোয়াদাম ব্রাহ্মণটিলা (আসামবস্তী সংলগ্ন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক একরজুড়ে বিস্তৃত বাগানের শত শত ফলধরা পেঁপে গাছ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ গাছে কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপে ছিল। যেসব গাছের ফল আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারজাত হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

[ad_OwixA1az]

বাগান মালিক মো. খলিলুর রহমান জানান, লিজ নেওয়া জমিতে তিনি প্রায় এক হাজার ৮০০টি পেঁপে গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলনশীল প্রায় ৮০০টি গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএসের কথিত কালেক্টর শান্তি রঞ্জন চাকমা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দুই দিন আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বাগানে এসে শ্রমিকদের সামনে টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকি দেন। পরে রাতের আঁধারে ফলনশীল গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়।

খলিলুর রহমান আরও বলেন, “কয়েক মাসের পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাগান এক রাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

বাগানের কেয়ারটেকার মো. জাহিদ জানান, রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাগানের বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর ফল খুব শিগগিরই বাজারে তোলার কথা ছিল।

বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের দাবি, ঘটনার কয়েকদিন আগে তিনজন পাহাড়ি যুবক এসে মালিকের খোঁজ করেন এবং চাঁদা না দিলে এলাকায় বাগান করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে যান। এরপর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে গাছগুলো কেটে দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্বত্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি একটি বড় সমস্যা। ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন মালিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হয়। নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।

এ বিষয়ে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত