শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

ডাকসু নেতা মোসাদ্দিক ও জুবায়েরের ওপর ছাত্রদলের হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার দুই নেতা হলেন—ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে ‘অপমানজনক’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ঢাবি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় মামলা করতে শাহবাগ থানায় যান ছাত্রদল নেতারা। মামলার ঘোষণা ছাত্রদল নেতারা আগেই দিয়েছিলেন।

একইসময়ে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় হাজির হন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও ফাতেমা তাসনিম জুমা।

থানা চত্বরে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে ডাকসু নেতাদের সঙ্গে ছাত্রদল কর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ২০-৩০ জন ছাত্রদল কর্মী মোসাদ্দিক ও জুবায়েরের ওপর চড়াও হন এবং তাদের মারধর করেন।

তবে ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, মোসাদ্দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ওপর আগে আক্রমণের চেষ্টা করেন, যার ফলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।

হামলার পর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা দুই ডাকসু নেতাকে উদ্ধার করে থানার ভেতরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, প্রায় ২০ মিনিট ধরে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন কর্মী থানার ভেতর স্লোগান দিতে থাকেন এবং ওই দুই ডাকসু নেতাকে বাইরে বের করে আনার দাবি জানান।

পরে, ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে ছাত্রদল কর্মীদের থানার বাইরে বের করে দেন।

ঘটনাস্থল থেকে ডেইলি স্টার প্রতিবেদক জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনার পর ডাকসু নেতাদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আলোচনায় অংশ নেন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

এরপর শাহবাগ থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশের পকেট গেট দিয়ে ডাকসু নেতাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়।

রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের একটি আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় আসেন এবং দাবি করেন, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। তিনি ওই পোস্টটি করেননি।’

তিনি বলেন, ‘একইসময়ে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সদস্য থানায় প্রবেশ করলে দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উভয়পক্ষই ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।’

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত