মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ঝাড়ফুঁকের নামে লাঠির আঘাত, বাবার হাতে ছেলের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে কবিরাজের পরামর্শে ঝাড়ফুঁক ও কথিত চিকিৎসা করতে গিয়ে বাবার হাতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এবাদুল্লাহর বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণের নাম সাঈদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জন্মগতভাবেই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন সাঈদ। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। নিহতের বাবা নুর মোহাম্মদ নিজেও কবিরাজি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে কবিরাজের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলের কথিত চিকিৎসা করছিলেন নুর মোহাম্মদ। এ সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি সাঈদের মুখের ভেতর লাঠিসদৃশ কোনো বস্তু প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রতিবেশী সাকিব জানান, তিনি ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাঈদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে নিহতের বাবা নুর মোহাম্মদকে এবং পরে রাতে তাঁর মা জাহেদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বদি বলেন, ‘নুর মোহাম্মদ আমার ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার। কোনো এক ভণ্ড পীরের পরামর্শে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং নুর মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী জাহেদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কবিরাজের পরামর্শে কথিত চিকিৎসা দেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে নিহতের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত