চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্যালাইন দিতে দেরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শহিদুল করিম মানিক (৪২) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ০৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত থাকার পরও শুরুতে তাঁদের বাইরে থেকে স্যালাইন সংগ্রহ করতে বলা হয়। বাইরে কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করেও স্যালাইন না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতালের নার্সকে জানানো হলে তিনি জানান, স্যালাইন হাসপাতালে রয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকেই স্যালাইন এনে রোগীকে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে স্যালাইন দিতে দেরির সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
[ad_OwixA1az]নিহত শহিদুল করিম হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে শহিদুলকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় কিছু ওষুধের সঙ্গে স্যালাইনও সংগ্রহ করতে বলা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, তাঁরা ওষুধ সংগ্রহ করতে পারলেও আশপাশের ফার্মেসিগুলোতে নির্ধারিত স্যালাইন পাননি। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহিদুলের পেটব্যথা বাড়তে থাকে। পরে বিষয়টি নার্সকে জানানো হলে হাসপাতালেই স্যালাইন থাকার কথা জানানো হয়। এরপর স্যালাইন দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর শহিদুল মারা যান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে স্যালাইন থাকার পরও কেন বাইরে থেকে তা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল, সেটি তাঁদের বোধগম্য নয়। তাঁদের দাবি, স্যালাইন দিতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের কয়েকটি কাচ ভাঙচুর করেন। জরুরি বিভাগের জানালা ও ডেলিভারি কক্ষের থাই গ্লাসসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসাসেবায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
