দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে রাঙামাটিতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এ কর্মসূচির মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
৬ সেপ্টেম্বর, রোববার সকালে রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে দুর্গম এলাকার অসহায় ও দুস্থ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন।
[ad_OwixA1az]ক্যাম্পে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।
দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, দুর্গমতা ও দূরত্বের কারণে যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের কর্মসূচি সরাসরি উপকার বয়ে আনে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের কর্মসূচি পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীন চাকমা, ইউপি সদস্য রিটন বড়ুয়া, মাবিকছড়ি বাজার সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সগির, সাপছড়ি যুবদলের সভাপতি আব্দুল বাছা, সমাজ কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীরসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
