বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

কোস্টগার্ডের জব্দৃকত ৯০ বস্তা সার পুলিশ হেফাজতে গায়েব

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারে পাচারের সময় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জব্দ করা ৪৫০ বস্তা ডিএপি সারের মধ্যে ৯০ বস্তা পুলিশি হেফাজত থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, জব্দ করা এসব সারের একটি অংশ গোপনে বিক্রি করা হয়। পরে মিনি ট্রাকে করে সার সরিয়ে নেওয়ার সময় ৫০ বস্তা সার জব্দ হলে বিষয়টি সামনে আসে।

অভিযোগের তীর পতেঙ্গা থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর, একই ফাঁড়ির এএসআই শম্ভু নাথ, কনস্টেবল আলাউদ্দিন এবং আনোয়ারা রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোস্টগার্ডের অভিযানের পর জব্দ করা সারগুলো একটি কার্গো বোটে সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা গুদামজাত করার আগেই সেখান থেকে ধাপে ধাপে সার বের করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

[ad_OwixA1az]

অভিযোগ অনুযায়ী, জব্দ করা সারের মধ্যে ৯০ বস্তা কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার ব্যবসায়ী মো. মনিরের কাছে বিক্রি করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কনস্টেবল আলাউদ্দিন সমন্বয় করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

পরে সারবোঝাই একটি মিনি ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শফি উল্লাহ ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার জব্দ করেন। এ ঘটনায় মনির ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা জব্দ আলামতের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে কোস্টগার্ডের অভিযানে উদ্ধার করা সরকারি আলামত কীভাবে পুলিশি হেফাজত থেকে বাইরে গেল, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জব্দ আলামত সংরক্ষণের নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ, পরিবহন রুট এবং সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

গত ৩১ জুলাই পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা (২২ হাজার ৫০০ কেজি) ডিএপি সার, একটি কার্গো বোট জব্দ এবং ২৩ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর বলেন, “সারগুলো যেভাবে জব্দ করা হয়েছিল, সেভাবেই আছে। বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন, জব্দ করা সার বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনির ও রেজাউল করিমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত