মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ৩ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করেছে : মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে “ফ্যাসিস্ট হাসিনার দমন-পীড়নে” ৩ শতাধিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও নির্যাতিতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

৩ আগস্ট, সোমবার বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক এবং নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।

[ad_OwixA1az]

বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিহতের কথা উল্লেখ থাকলেও সরকারি গেজেটে এখনো ৯০০-এরও কম নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও নির্যাতিতদের তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ার ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই কোনো দলের সম্পদ নয়, এটি সমগ্র জাতির অর্জন। তাই শহীদদের আত্মত্যাগকে দলীয় নয়, জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী চট্টগ্রামের সাত শ্রমিকসহ সারাদেশের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে শ্রমিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখনো জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে তারা রাজনৈতিক হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্মসংস্থান রক্ষা, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, সংকটাপন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ফেডারেশনের মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, খুলশী থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম এবং কোতোয়ালী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ।

এছাড়া কোতোয়ালী থানা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়ের, ফেডারেশনের মহানগর কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত