বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মঙ্গল কামনা স্পিকারের

ডেস্ক রিপোর্ট

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেছেন তিনি।

২৪ জুলাই, শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

স্পিকার বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসামর্থ্যের কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমার হাতে পৌঁছায় এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। আমি তার সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করছি।”

[ad_OwixA1az]

তিনি জানান, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি যেদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছি। তাই পৃথকভাবে নতুন কোনো শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।”

সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন আগের সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও পরবর্তী সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রেখেছিলেন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে।

তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত। আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে জাতীয় সংসদ। ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সব সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত