শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

চট্টগ্রাম চেম্বারেও একতরফা নির্বাচন: বর্জনের ঘোষণা ব্যবসায়ী পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে “প্রহসনের নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। এর আগে গত ২১ মে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতেও একতরফা নির্বাচনে বিএনপিপন্থীরা পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়।

২২ মে, শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগে বাধ্য হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সদস্য যাচাই-বাছাই করে ভুয়া সদস্য ও অকার্যকর সংগঠন বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রক্রিয়াগত জালিয়াতির মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ট্রাইব্যুনাল নতুন তফসিল ঘোষণা করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নুরুল হক আরও অভিযোগ করেন, গত ১৮ মে হঠাৎ করে নির্বাচন বোর্ড আগামী ২৩ মে স্থগিত নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রস্তুত সময়। সামনে ঈদুল আজহা, ব্যবসায়িক ব্যস্ততা এবং অনেক ব্যবসায়ীর বিদেশে অবস্থানের কারণে অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, “স্বল্প সময় দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা ব্যবসায়ী সমাজের ভোটাধিকার হরণ করে একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হলে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়। পরে চেম্বার জজ আদালত সেই আদেশ স্থগিত করলেও আগামী ৮ জুন চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এম নুরুল হক বলেন, “এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বেআইনি, পক্ষপাতমূলক এবং আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক নির্বাচন নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে একপক্ষীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা চট্টগ্রাম চেম্বারের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মে’র নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সব সদস্যকে ভোট বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাসেদ আলী, মু. মুছা, মোস্তাক আহমদ, আবছার হোমেন, আলী হোসেন, কামাল হোসেন, মো. আজিজ ও মো. রানা আল মামুন।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত