চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের দুইজনকে তুলে নিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

৪ মে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গরিবুল্লাহ শাহ মাজার গেট এলাকার ‘ইশপা রেস্টুরেন্টে’ পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হওয়াসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সোমবার রাতে ডিউটি শেষে সিভিল পোশাকে ওই রেস্টুরেন্টে চা-নাস্তা করছিলেন কয়েকজন সদস্য।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, ‘ওই সময় দুই-তিনজন বহিরাগত যুবক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়া শুরু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা পুলিশ সদস্যকে গাঁজা খাওয়ার অপবাদ দিলে প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন এবং তারা আত্মরক্ষার্থে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।’
তবে অন্য একটি সূত্রে ঘটনার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবু মুন্সি নামে এক পুলিশ কনস্টেবল সিভিল পোশাকে গাঁজা সেবন করছিলেন এবং ছাত্রদল কর্মীরা তাকে ধরে ফেললে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকে চড়-থাপ্পড় মারা হলে তিনি পালিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে প্রায় ৩০-৪০ জন পুলিশ সদস্য সিভিল পোশাকে জড়ো হয়ে ছাত্রদলের ১০-১৫ জন নেতাকর্মীকে মারধর করেন।
একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও খুলশী থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নুর আলম সোহাগকে পুলিশ লাইনের ভেতরে তুলে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের হস্তক্ষেপ এবং নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিনের মধ্যস্থতায় তাদের মুক্ত করে আনা হয়। সংঘর্ষের পর আহতরা সিএমপির মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন জানান, চা খাওয়া নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল যা পরে সিনিয়রা সমাধান করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এসএস



