চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য আবদুল জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলাকে ঘিরে নীরবে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছর হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র দোকান বসানো ও বিভিন্ন স্থাপনা স্থাপনের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

গোপন সূত্র জানায়, মেলায় অস্থায়ী দোকান বসাতে হলে দোকানের আকার ও অবস্থানভেদে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধু ছোট দোকানই নয়, বড় আকর্ষণ যেমন নাগরদোলা, নৌকা দোলনা ও চরকী দোলনা বসানোর ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লালদিঘী মাঠে নাগরদোলা, নৌকা দোলনা ও চরকী দোলনা বসানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছেন মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, আকতার আনোয়ার চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম।

এছাড়া, লালদিঘী সোনালী ব্যাংক এলাকা থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত মমিন ও মানিকের নেতৃত্বে দোকান বসানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, লালদিঘী শাহী জামে মসজিদ থেকে কারাগার গেট এবং জেলরোড পর্যন্ত রিকি ও তার সহযোগীরা চাঁদাবাজি করছে বলে জানা গেছে। এ কাজে স্থানীয় এক ব্যক্তি জসিম উদ্দিন ওরফে ‘ভিডিও জসিম’ তাদের সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যপারে মুঠোফোনে জসীম উদ্দীন জানান, তিনি এ ধরনের কোন কর্মকাণ্ডে করছেন না।
এদিকে জেলরোড থেকে লালদিঘীর উত্তর পাড় ও কেসিদে রোড পর্যন্ত এলাকায়ও কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি দোকান বসানোর নামে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে পুলিশ কমিশনারের নির্মাণাধীন কার্যালয় ফটক থেকে লালদিঘী মোড় পর্যন্ত এলাকাতেও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে চার জনকে আটকও করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তারা হলে নগরীর মাছুয়াঝর্ণা এলাকার শাহাদাত হোসেন শওকত, তুহিন, আবু বক্কর ফাহিম, সাজ্জাদ হোসেন। তবে পরবর্তীতে যাচাই বাছাই শেষে অভিযোগকারী না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসএস



