চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট ধলইপুলের পূর্বপাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র স্থানীয় কিছু বিএনপি পাতিনেতাদের শেল্টারে আওয়ামী লীগের পাতিনেতাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার জমিগুলো ‘সাগর সদৃশ’ গর্তে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ধলই খালের পাড় ঘেঁষে মাটি কাটায় আগামী বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙে ফসলি জমি ও আশপাশের বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজন জমির মালিক অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক দখল করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে তাদের জমি নষ্ট করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
বিশেষ করে ওই এলাকায় স্থাপিত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক ৭১ নামের একটি পেজের কথিত সাংবাদিক সানিফ চৌধুরী পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রতিবেদকদের হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি প্রশাসনের জানা এবং আগে জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ও তার বড় ভাই সালাউদ্দীন মুন্না চৌধুরী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। মুন্না একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হেনস্থার শিকার সাংবাদিকরা গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান অভিযোগটি গ্রহণ করে গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন।
উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, “এর আগে একবার জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন বলেন, “এটি গুরুতর অপরাধ। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ মাটি কাটা দ্রুত বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এসএস



