চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে সুমি আক্তার (১৯) ও তার দুই বছরের শিশু কন্যা ওয়াজিহা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়পঞ্চক আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত সুমির স্বামী, সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিজান (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর থেকে মিজানের মা পলাতক রয়েছেন।
নিহত সুমি আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। স্বামী মিজান পটিয়া উপজেলার মালিয়ারা এলাকার বাসিন্দা। তারা কয়েক বছর ধরে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করে আসছিলেন।

নিহতের মা হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করেন, বিকেলে মিজান ফোন করে তার মেয়ে ও নাতনির মৃত্যুর খবর দেন। এ সময় তিনি ফোনে মেয়ের গোঙানির শব্দ শুনতে পান বলে দাবি করেন। তিনি বারবার মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মিজান ফোনটি দেননি। তার অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের দুলাভাই মো. এনামুল হক বলেন, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। স্বর্ণ বন্ধক রাখা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মা-মেয়ের মরদেহ ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইদ্রিছ জানান, মিজানের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আনোয়ারা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএস



