শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

পিউরিয়া ফুড ও কে বেকারিকে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল প্রক্রিয়াকরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য মজুদের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১৪ মার্চ, শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।

অভিযানকালে পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে অত্যন্ত নোংরা ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও কাঁচামাল সংরক্ষণাগারে তেলাপোকা ও ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব, স্যাঁতসেঁতে ও তৈলাক্ত মেঝে এবং পচা ও পোকাযুক্ত ডিমের মজুদ পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্রিজারে জমাট বাঁধা রক্ত-মাংসের উচ্ছিষ্টাংশ, মিষ্টিতে পোকা-মাছির উপস্থিতি এবং মাওয়াতে ক্ষতিকর অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া খাদ্যপণ্যে অগ্রিম উৎপাদনের তারিখ বসানো, ভেজাল প্রক্রিয়াকরণ এবং অস্বাস্থ্যকরভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় প্রায় ১২০ কেজি মানবভোজ্য অনুপযোগী মিষ্টি ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মেয়াদে কারচুপির কারণে জব্দ করা প্রায় ৫০ ক্যারেট বেকারি পণ্য—ব্রেড, বিস্কুট ও সেমাই—চট্টগ্রামের জামিয়া মাদানিয়া শোলকবহর ও আল হুমায়রা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

একই দিনে নগরীর খুলশী এলাকার জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত কে বেকারিতেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দধি তৈরি, মেয়াদহীন রঙ ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। নোংরা পাত্র ও প্লাস্টিকের রশি ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইনে মালিকপক্ষকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কার্যালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সিএমপি’র একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত