ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট জমা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

আজ (সোমবার) দুপুরে নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বোন মাসুমা হাদি এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে প্রকাশ্যে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন অতিক্রম হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার গভীর হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হামলার পর কীভাবে অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং অভিযুক্তদের পালাতে সহায়তাকারীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।
তারা সতর্ক করে বলেন, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক করার চেষ্টা হলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এসএস



