রমজান শুরু হতেই চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ছাড়াও ইফতারে ব্যবহৃত শসা, বেগুন ও লেবুর দাম কেজিতে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা।

আজ শনিবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চার থেকে পাঁচ দিন আগেও ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। ৩০ থেকে ৪০ টাকার টমেটো বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে। বেগুন ৪০ টাকা থেকে উঠে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের বাজারেও একই চিত্র। গত রোববার ৭০ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ কয়েক দিনের মধ্যে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। রসুনের দাম ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬৫ টাকা এবং পুরোনো মোটা পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার এলাকায় দেশি পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ সীমিত। অল্প পরিমাণে পাওয়া পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। চায়না রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি রসুন ৯০ টাকা এবং আদা ১০৫ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাকলিয়া এলাকার ক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, রমজান এলেই বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ে, এতে মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি, তবে পাইকারি ও খুচরা দামের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতারা। বর্তমানে আদা ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় লেবুর হালি ১০০ টাকা এবং পুদিনা পাতা ১২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর বিভাগীয় উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মূল্যতালিকা না থাকলে জরিমানা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তদারকি চলবে বলেও তিনি জানান।
এসএস



