চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সন্ত্রাসীদের এনে অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণহাট শিক্ষা কমপ্লেক্স মাঠে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তারা বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন নির্বাচন পরিবেশ নষ্ট করতে ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও ভয়ভীতি সৃষ্টির কাজে জড়িত রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমরা বিভাজনের রাজনীতি চাই না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই, একটি ঐক্যবদ্ধ ফটিকছড়ি চাই।

আগামীতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সম্পদ লুট ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে জনগণকে এবার ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানাই।
জনসভায় জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গনী অভিযোগ করেন, বাগানবাজার, কাঞ্চননগর, নানুপুর ও নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় অস্ত্রধারীদের এনে জড়ো করা হচ্ছে। আমাদের ব্যানার-পোস্টার খুলে ফেলা হচ্ছে।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানো হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুল আমিনের গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ভয় পেয়ে গেছে বলেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার বলেন, নির্বাচনী মাঠে ভয়ভীতি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
দেশের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণ ‘লাল কার্ড’ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভূজপুর থানা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবু তাহেরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা একরামুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় দাওয়া বিষয়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মুফতি শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আব্দুর রহমান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফটিকছড়ি জোন পরিচালক মামুনুর রশিদ মিনহাজ, শহীদুল ইসলাম সাফি, এম এ সত্তার, সফিউল আলম নূরী, ডা. আব্দুর রহিম, এজহারুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ আল কাদেরি, জিয়াউল হক জিয়া ও হাসান সাশশুউদ্দিন।
বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য এবং অস্ত্র ও সন্ত্রাসী সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত তদন্ত জরুরি।
এসএস



