দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ততই বাড়ছে সংশয়। নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভারতে বৈশ্বিক এই আসরে অংশ নেওয়ার কথঅ নতুন করে ভাবছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের জিএনএন এইচডি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে ভারতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে।
নিপা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। বাটলার জানান,‘নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আপাতত অস্ট্রেলিয়ায় আসা অসুস্থ যাত্রীদের জন্য প্রোটোকল পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে স্ক্রিনিং শুরু হলেও অস্ট্রেলিয়া এখনই এয়ারপোর্টে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের আপত্তির পর ইউরোপের অন্য দেশগুলোও ভারতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। মূলত ২০ দলের এই মেগা ইভেন্টের ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি ৩৫টি ভারতে হওয়ার কথা ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, কয়েক দিন আগেই নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আইসিসি নাকচ করে দিয়েছিল।
মাঝে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার একাধিক দেশ ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পুনরায় কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালুর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। যারা সুস্থ হন, তাদের অনেকের মধ্যেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপা ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারি সৃষ্টির সম্ভাবনাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এসএস



