শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

চট্টগ্রামের পাঁচ আসনে মনোনয়ন বাতিল ১২, বৈধ ৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

৩ জানুয়ারি, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে মনোনয়ন যাচাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের যাচাই হয় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এবং চট্টগ্রাম-৬, ৭ ও ১২ আসনের যাচাই হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)

এ আসনে দাখিল করা ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুর রশীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন:
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির আসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার ছিদ্দিক , গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী এ টি এম পারভেজ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)

এ আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করতে না পারায় বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক, মো. ইমাম উদ্দিন রিয়াদ ও শাকিলা ফারাজানার মনোনয়ন ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় বাতিল করা হয়।
মনোনয়ন যাচাইয়ের আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবকারী সালাউদ্দিন খোরশেদকে ধাওয়া দেওয়া হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল হলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল করেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব উদ্দিন জানান, একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৬(রাউজান)

এ আসনে দাখিল করা পাঁচটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির গোলাম আকবর খন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই দলের দুটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বিধি অনুযায়ী প্রথম দাখিল করা মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দ্বিতীয়টি যাচাই করা হয়নি।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)

এ আসনে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল ও ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বাতিল প্রার্থীরা: এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন: জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ, ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন ও খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)

এ আসনে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ এবং চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের এস এম বেলাল নুর, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু ও গণ অধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান।

বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে এলডিপি প্রার্থী এম এয়াকুব আলী ঋণ খেলাপি হওয়ায়, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন দাখিল না করায় এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সৈয়দ শরীফ আহমেদ ভুয়া স্বাক্ষর দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের সতর্ক করেন।

৪ জানুয়ারি, রোববার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮, ৯ ও ১০ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩ থেকে ১৬ আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হবে।

তফসিল অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি থেকে চারদিন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত