চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি মাইক্রোবাসে এসে এ হামলা চালায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
গুলিবর্ষণের শিকার বাড়িটি নগরীর চন্দনপুরা এলাকার বাসিন্দা ও স্মার্ট গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মুজিবুর রহমানের। ঘটনার সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন।

চকবাজার থানা-পুলিশ জানায়, ভোরে সাত থেকে আটজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে এসে বাড়িটির সামনে ও পেছনে অবস্থান নেয়। এরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রাথমিকভাবে এটি চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানকে গত কয়েক দিন ধরে দুবাইভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তবে বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি। প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীরা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বাহিনীর অনুসারী হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, একটি মাইক্রোবাসে ৮ জন মুখোশধারী এসেছিল। এরপর পিস্তল উঁচিয়ে কয়েক রাউন্ড ফায়ার করে চলে যায়। চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। আমরা ধারণা করছি, মুখোশধারীরা সবাই বড় সাজ্জাদের অনুসারী। আমরা ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।
ঘটনার পর বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুজিবুর রহমান বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর পরিচয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে দুবার ফোন করে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। হামলার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এসে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে চলে যায় বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তিনি সাজ্জাদ হোসেন খান নামে তালিকাভুক্ত। চাঁদা না পেলে তাঁর অনুসারীরা নিয়মিত গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় জড়ায় বলেও পুলিশের অভিযোগ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজানসহ অন্তত পাঁচটি থানায় এই নেটওয়ার্কের তৎপরতা রয়েছে।
এ ঘটনার পর চন্দনপুরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এসএস



