শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

চলে গেলেন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৬ টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। কিডনি, হৃদরোগ ও নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস যাবত তিনি ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় সেখানে তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের স্ত্রী জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘সংকটময়’ জানানোর পর থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘উৎকণ্ঠা’ তৈরি হয়। তাদের অনেকেই বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন। তারপর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে দলের সর্বস্তরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সবশেষ অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতা প্রার্থনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত কয়েক দিনে সরকারের একাধিক উপদেষ্টা হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এর আগে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে উঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। তার পর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন। ২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত