ফটিকছড়ির ভুজপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে যুবদল ক্যাডার আমান হোসেন (৩০)। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বড়বেতুয়া নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ভুজপুর থানা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে গুলিসহ পিস্তল, রামদা, কিরিচ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আমান দাঁতমারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় বেতুয়া নতুন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র। তাঁর বিরুদ্ধে ভুজপুর এবং হাটহাজারী থানায় ৫টিরও অধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানান ভুজপুর থানার ওসি মোঃ মাহবুবুল হক ।

পুলিশ সুত্র জানায়, আমানকে গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে ভুজপুর থানার ওসি মোঃ মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে এসআই বরকত উল্ল্যাহ, এসআই মোঃ জালাল উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম আমানকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পুলিশ দাঁতমারা ইউনিয়নের বড় বেতুয়া নতুন পাড়া গ্রামের আমানের বাড়ী ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমান দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কিছু দুর ধাওয়া করার পর তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তাঁর দেয়া স্বীকারোক্তি মতে তাঁর বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা একটি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ১টি রামদা,২টি কিরিচ উদ্ধার ও ১ টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুত্র জানায়, ৫ আগষ্টের পর দাঁতমারা ইউনিয়নের বড় বেতুয়া এলাকায় ১৫/২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ তৈরি করে আমান ও আহমদ ছাফা। উঠতি বয়সের তরুন ও যুবকরাই ছিল তাদের সিন্ডিকেটের সদস্য। বড় বেতুয়া, তারাখোঁ, ছোট বেতুয়া, চুড়ামনি, বান্দরমারা, কাঞ্চনা, হাসনাবাদ,শাপমারা, শান্তিরহাট, রত্নপুর এলাকায় বিস্তৃত ছিল তাদের একক আধিপত্য। বালিমহাল দখল,মাটি পাচার, সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের গাছ লুট, জায়গা দখল, চুরি ডাকাতি, মুক্তিপন আদায়, মোটর সাইকেল ছিনতাই, মাদক পাচারসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল আমান সিন্ডিকেট। বালিমহাল দখল নিয়ে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে আমান ও আহমদ ছাফা আলাদা হয়ে যায়। তাদের বিরোধের জেরে সংঘটিত হয় রমজান ও শহীদ হত্যাকান্ড। বালি লুটে বাধা দেয়ায় তারাখোঁ গ্রামের গোলাম মাওলা নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম করে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ শিশু কন্যাকে অপহরন নাটক সাজিয়ে হত্যার ঘটনার সাথে আমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া ইসলামপুর এলাকার হালিম নামে এক মোটর সাইকেল চালককে আটকে রেখে বেদড়ক পিটুনির পর তার মোটর সাইকেল, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় আমান। এ ঘটনায় হালিম ভুজপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। গত দু মাস আগে বড় বেতুয়া সন্দ্বীপ পাড়া গ্রামের প্রবাসীর বাড়ীর অন্তত শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বাগিয়ে এনে বাড়ীতে রেখেছে বলেও জানায় পুলিশ।শআমানকে গ্রেফতারে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও আতংক কাটেনি। স্থানীয়দের দাবী আমানকে যারা শেল্টার দিয়েছে কাদেরকও যাতে আইনের আওতায় আনা হয়।




