চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁদনগর এলাকায় আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন উপকারভোগীহীন। দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকা এসব ঘর দখল করেছে স্থানীয় মাদকসেবী ও জুয়াড়ীরা। রাত নামলেই সেখানে বসে জুয়া ও মাদকসেবনের আসর এবং চলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।

২২ অক্টোবর, বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছয়টি আশ্রয়ণ ঘরের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ এবং দুটি ঘরে বসবাস করছে দুটি পরিবার। তবে তারা কেউই প্রকৃত উপকারভোগী নয়।
ঘর গুলোতে বসবাস করা চকরিয়ার বাসিন্দা মো. শাহ আলম জানান, আমি পঙ্গু মানুষ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক বছর ধরে এখানে থাকছি। ঘরটি খালি থাকায় তারা আমাকে থাকতে দিয়েছেন।

নোয়াখালীর বাসিন্দা ফাহেতা আক্তার। তিনি পাশের আরেকটি ঘরে থাকেন। তিনি বলেন, আমরা এই ঘরের মালিক নই। প্রকৃত মালিক আবদুস শুক্কুর। চার বছর আগে রাণীরহাট ভূমি অফিসের তহসিলদার একরাম নামে একজনের মাধ্যমে আমরা এখানে উঠি।
সরেজমিনে আরও জানা যায়, প্রকৃত উপকারভোগীরা অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘরগুলো তালাবদ্ধ করে রেখেছেন, যেন অন্য কেউ দখল নিতে না পারে এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকে।
পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের উপকারভোগী মনোয়ারা বেগম জানান, আমি চার বছর সেখানে ছিলাম। ছয় মাস আগে মেয়ের বিয়ের জন্য বাবার বাড়িতে যাই। ফিরে এসে দেখি ঘরে তালা। পরে আমি তালা ভেঙে প্রবেশ করি।
রাণীরহাট ভূমি অফিসের তহসিলদার মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, ছয়টি ঘরের মধ্যে দুটি পরিবারের মালিক মারা গেছেন। যতদূর জানি, একটি পরিবার বৈধভাবে বসবাস করছে। অন্যদের বৈধ কাগজপত্র নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মনোনীত ব্যক্তিরা। তাদের অনেকে ঘরে থাকেন না। স্থানীয়রা দাবি করেন—খালি ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে পুনর্বণ্টন করতে হবে এবং ঘিরে থাকা মাদক ও জুয়া বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিফাতুল মাজদার বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকাগুলোতেও শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি আজ অবগত হলাম। প্রকৃত উপকারভোগীরা যদি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকেন, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের দেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।



