বাবা একজন সিকিউরিটি গার্ড। মা গৃহিণীর কাজ করেন। সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের পড়াশোনার প্রতি সর্বদা সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন তারা। পরিবারের আর্থিক অবস্থায় কখনোই স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। তবুও থেমে থাকেনি আয়েশা আক্তার।

লেখাপড়ার খরচ চালাতে নিজের দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নেয় আয়েশা। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাত সে। তবে নিজের প্রয়োজনের চেয়ে পরিবারের প্রয়োজনকেই বেশি প্রাধান্য দিত। এভাবেই সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই অদম্য শিক্ষার্থী।
লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানার চরবিগঞ্জ গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফা ও শাহনাজ বেগমের মেয়ে আয়েশা আক্তার। রায়পুর এল.এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চায় আয়েশা।

আয়েশার স্বপ্ন ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন প্রকৌশলী হওয়া এবং গ্রামবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। আয়েশা জানায়, আমি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা করেছি। বাবার সামান্য আয় দিয়ে চলতো সংসার। আমি বিশ্বাস করি, সৎ চেষ্টা করলে সফলতা একদিন আসবেই।
এলাকার মানুষও আয়েশার এই সাফল্যে গর্বিত। প্রতিবেশী খোকন (৪৫) বলেন, আয়েশা খুবই পরিশ্রমী মেয়ে। অনেক কষ্টের মাঝেও সে কখনো পড়াশোনা ছাড়েনি। তার জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা গ্রামের সবাই খুশি।
আরেক প্রতিবেশী মোছা. জান্নাত (৪৩) বলেন, আমাদের গ্রামের গর্ব আয়েশা। কষ্টের মধ্যেও সে হাল ছাড়েনি। আমি বিশ্বাস করি, একদিন সে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গ্রামের মানুষের জন্য অনেক কিছু করবে।
আয়েশার বান্ধবী ফাতেমা আক্তার জানায়, তার স্বপ্ন অনেক বড়, কিন্তু সে কখনো অহংকার করে না, বরং সবাইকে উৎসাহ দেয়।
আয়েশার বাবা মো. মোস্তফা বলেন, আমি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করি। আমার মেয়ে ৭ম শ্রেণি থেকে ছোটদের টিউশনি দিয়ে আয় করতো। তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
রায়পুর এল.এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, আয়েশা মেধাবী ছাত্রী। সে জিপিএ-৫ পেয়েছে, ভবিষ্যতেও ভালো করবে। আমরা চাই তার আশা পূরণ হোক। এবারের এসএসসিতে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে আমাদের বিদ্যালয় থেকে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার চেষ্টা করব।



