বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

রাজশাহীতে ওয়াসার বৃহৎ পানি প্রকল্প

সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে পদ্মার পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীর মানুষের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বৃহৎ পানি পরিশোধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা। পদ্মার পানি পরিশোধনের মাধ্যমে জেলার শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোচ্ছে প্রকল্পটি।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর এলাকায় পানি পরিশোধনাগারের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ‘রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সম্ভব হবে।

রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মামুদ জানান, পরিশোধিত পানি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হবে। ইতোমধ্যে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে ওয়াসা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকায় পানির ঘাটতি দূর হবে এবং সুপেয় পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ৪০ বছর। প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, “এই প্রকল্প রাজশাহীর শহর ও পার্শ্ববর্তী পৌরসভাগুলোর সব বাসিন্দাকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনবে। পাশাপাশি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তি পানির চাহিদাও পূরণ করবে।”

তিনি আরও জানান, পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের মাধ্যমে তা ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত করা হবে এবং তা নিরাপদভাবে পান করা যাবে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো পাইপলাইন ও হাইড্র্যান্টগুলো মেরামত ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রাজশাহী শহরে দৈনিক প্রায় ১৩ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ কোটি ৩ লাখ লিটার মাটির নিচ থেকে এবং প্রায় ৯০ লাখ লিটার পদ্মা নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী ওয়াসা ১১০টি পাম্প ও ৮৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষকে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করছে।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল আলম সরকার বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শহরে আর পানির কোনো ঘাটতি থাকবে না। শুধু শহর নয়, নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভাতেও সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সততা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে স্বচ্ছ, টেকসই ও অংশীদারিত্বভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

এছাড়াও, ‘রাজশাহী শহর এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কার’ নামে আরও একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে সাময়িক সময়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে জনগণের ভোগান্তি হ্রাস এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, রাজশাহীতে ওয়াসার এই বৃহৎ প্রকল্পটি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত