টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক ঘটনায় পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে দুই শিশু এবং আনোয়ারা ও চকরিয়ায় পানিতে ডুবে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়।
১০ জুলাই, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত আশিক বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে। অপরদিকে মিরাজ একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার বাসিন্দা।
[ad_OwixA1az]স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে বের হলে পূর্বদিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সবাইকে শিশুদের নিরাপদে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান সর্দারপাড়ায় অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে ডুবে মো. ইশতিয়াক (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
ইশতিয়াক ওই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ ইদ্রিচের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল মেজো এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্বজনরা জানান, কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় ইশতিয়াক বাবার পিছু নিয়েছিল। পরে তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা একটি বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা মো. আনোয়ার বলেন, খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, “কাজে যাওয়ার সময় সে আমার পিছু নিয়েছিল। আমি তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আর ঘরে ফিরল না। আমার সন্তান এভাবে চলে যাবে, তা ভাবতেই পারছি না।”
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন চৌধুরী জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে একই দিন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাতেও বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়ার মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্প মারা যায়।
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
