চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহ আমানত হলে থেকে অস্ত্র হাতে বের হওয়া যুবকের পরিচয় জানা গেছে। তার নাম মোস্তাক প্রামাণিক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী।

তিনি শাহ আমানত হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
জানা গেছে, ১৭ মে সন্ধ্যার পর শাহ আমানত হলের বাইরের সড়কে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শাহ আমানত হলের ভেতর থেকে মোস্তাক প্রামাণিক ধারালো রামদা হাতে বের হয়। রামদা হাতে তাকে ছুটতে দেখে হলের ভেতর ও আশপাশে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ৪২০ সদস্যের কমিটিতে মোস্তাক প্রামাণিকের কোনো পদ না থাকলেও তিনি চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করেন। শাহ আমানত হলে তিনি থাকেন। শাহ আমানত হল সংসদ নির্বাচনে তিনি জিএস পদে ৬৬০ ভোট পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, ১৭ মে খেলার মাঠের সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় আমানত হল। সিসিটিভি ফুটেজে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একজনকে কাপড়ে মোড়ানো রামদা নিয়ে হল থেকে বের হতে দেখা যায়। অস্ত্রধারীর নাম মোস্তাক আহমেদ। সে চবি’র রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিকভাবে সে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। এবং চাকসু নির্বাচনে আমানত হল সংসদের জিএস পদপ্রার্থী ছিল সে। আমার প্রশ্ন হলো, সে এই অস্ত্র কোথায় পেল? ছাত্রদল কি তাহলে তাদের কর্মীদের হাতে ছাত্রলীগের মতো অস্ত্র তুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন করে তুলে চায়?
ঘটনার বিষয়ে অবগত করার পরও হল প্রভোস্ট সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে চাকসু নেতৃবৃন্দের চাপে ফুটেজ দিতে বাধ্য হয়। তিনি অপরাধীকে বাঁচাতে চান কেন?বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে মোস্তাক প্রামাণিককে কল করা হলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।
এসএস



