বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৭৬: নিহত ৫৩২, বাড়ছে প্রাণহানি

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশে গত মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭৬টি ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন ও শিশু ৯৮ জন।

১১ এপ্রিল, শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮.৩৪ শতাংশ। এছাড়া ৭৯ জন পথচারী (১৪.৮৪%) এবং ৬৬ জন চালক ও সহকারী (১২.৪০%) প্রাণ হারিয়েছেন।একই সময়ে ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি মনে করে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। গতি নিয়ন্ত্রণে তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দরকার।

দুর্ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। আর জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ১৭১টি। গ্রামীণ সড়কে ৭০টি। শহরের সড়কে ৬২টি এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-হ্যান্ড ট্রলি-ট্যুরিস্ট জিপ ২৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জিপ ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন-পাখি ভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্রা) ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বাইসাইকেল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অজ্ঞাতনামা যানবাহন ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোসহ ১১টি কারণ উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি ও বেতন-কর্মঘণ্টা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন ইত্যাদি।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত