চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরীকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঠিকাদার মহসিন হায়দারের বিরুদ্ধে।

মহসিন ‘মেসার্স মহসিন অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, অভিযুক্ত ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “রুমে ঢুকে একদম ফুটবলের মতো লাথি দেব।” পাশাপাশি ব্যাংকে দেওয়া একটি চিঠি প্রত্যাহার এবং বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধের দাবিও জানান তিনি।
অডিওতে আরও স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত এবং সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকির কথাও শোনা যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক মহলসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মহসিন হায়দার দাবি করেন, দুটি প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে উপজেলা প্রকৌশলী তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিল সংক্রান্ত জটিলতায় উত্তেজিত হয়ে তিনি খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি এটিকে নিজের ভুল উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে বিল স্থগিত রাখা হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার এমন আচরণ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।
এসএস



