চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মামুন হোসাইনের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১২ জানুয়ারি, সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের শহিদ মামুন হোসাইন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শাহ আমানত হল শিবিরের সভাপতি মো. সৈকত হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ইবরাহীম।

শিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মো. ইবরাহীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতা যাওয়ার প্রথম পাঁচ বছরে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের ক্ষেত্র তৈরি করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাজানো নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার পর ছাত্রলীগ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য ক্যাম্পাসগুলোতে বেপরোয়া আক্রমণ চালায়। তাদের হল প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে।’
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরেও সহিংসতার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। এদেশের সামনে দুইটি পথ। প্রথমটি আগের সিস্টেমে ফিরে যাওয়া, যার সাময়িক ক্ষতি কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাসিস্ট সংস্কৃতি তৈরি হবে। দ্বিতীয়টি হলো জুলাই বিপ্লবকে সম্পূর্ণ বিপ্লবে রূপ দেওয়া। যেখানে ওসমান বিন হাদীর মতো শহিদ আরও হতে পারে, তবে তাতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক রবিউল হাসান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শাহ আমানত হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বশীলবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহ আমানত হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।
আলোচনা শেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ছাত্রশিবির, শাহ আমানত হলের সভাপতি ছাত্রনেতা মো. সৈকত হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে শহিদ মামুন হোসাইন নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।
প্রসঙ্গত, মামুন হোসাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের আবাসিক ছাত্র এবং ওই হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শাহ আমানত হলের দ্বিতীয় তলায় গলা কেটে তাকে হত্যা করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।
এসএস



