নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আগামী আগস্টকে কেন্দ্র করে আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
দলটির নেতাকর্মীরা নানা কৌশলে মাঠে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের কর্মসূচি বা শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাংগঠনিক উপস্থিতি টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
[ad_OwixA1az]এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজও রয়েছে, সেখানে নতুন কমিটি ঘোষণার তথ্য পাওয়া গেছে। দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এসব কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিদেশে অবস্থান করা কয়েকজন নেতাও দেশে ফিরেছেন। যদিও তারা প্রকাশ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরব অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের মাসগুলোতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে সমালোচনা, পাল্টা সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, ড. ইউনূসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও অপপ্রচার আরও বাড়তে পারে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ড. ইউনূসের অবস্থান এবং বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা তাঁকে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এ পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রপন্থী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও যুক্তিনির্ভর। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা লাগামহীন সমালোচনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অবশ্যই পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার বিভিন্ন বিষয়, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তারা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে সবকিছুই হতে হবে আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে।
তিনি বলেন, “রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করা কোনো দলের জন্য অস্বাভাবিক নয়। তবে দেশের মানুষ এখন কোনো ধরনের হঠকারী বা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করবে না।”
এসএস
[ad_ujVHoYsI]
