শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১৪ মার্চ, শনিবার দুপুরে উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে হত্যার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে হিযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আঙিনায় নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে তা ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। পরে বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ওইদিন মসজিদ নির্মাণের কাজে আসা সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের চোখ তুলে নেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে লাশে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর একটি মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি। আসামিরা এখনও ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর মধ্যে এ ঘটনায় দায়ের করা জিআর-৬১৭/১৬, জিআর-৮১২/১৬, জিআর-৬৮১/১৬ ও জিআর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যা করেছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং কারা মিছিল করে হামলা চালিয়েছে—তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ সংশ্লিষ্টদের নাম-ঠিকানা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আসামিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।”

তিনি দ্রুত প্রকৃত তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্যসহ ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত