বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

চট্টগ্রামে আ’লীগ কার্যালয়গুলো কোথাও তালাবদ্ধ, কোথাও নেই অস্তিত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত নেই বললেই চলে । নগর ও জেলার আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—কোথাও অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, আবার কোথাও কার্যালয়ের অস্তিত্বই নেই।

এক সময় যেসব কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পদচারণা, মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব পরিবেশ থাকত, এখন সেখানে নীরবতা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক অফিসের দরজায় ধুলো জমেছে, তালাগুলোতেও ধরেছে মরিচা।

তবে কোতোয়ালি থানার দারুল ফজল মার্কেটস্থ অফিসটি চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়, যেখানে শেখ হাসিনার নির্দেশে মহিবুল হাসান চৌধুরী ও আসিফ মাহমুদের তত্ত্বাবধানে সাইনবোর্ড লাগানো হয় ।
অপর দিকে গত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ভাঙচুরের পর, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর জেলা কার্যালয়ও খুলে দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার নগরীর লালদীঘির পাড়ে সড়কের পাশের দেয়ালে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ম্যুরাল ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

[ad_OwixA1az]

এদিকে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ফ্লাইওভারের নিচে মাইকে ৭ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ চালিয়ে দিয়ে উধাও হয়ে যাই নেতাকর্মীরা।

এবিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মোহাম্মদ সুলতান আহসান বলেন, মাইকে ভাষণ চালানো হয়েছে এমন তথ্য আমরা পাইনি।

নগরের দারুল ফজল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দরজা-জানালা ভাঙা এবং মূল দরজাটি তালাবদ্ধ। ভাঙা জানালা দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে চেয়ার-টেবিল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। কাগজপত্রও মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পুরো কক্ষজুড়ে অগোছালো ও পরিত্যক্ত অবস্থার চিত্র চোখে পড়ে।

এদিকে নগরের লালদীঘি পাড় এলাকায় আগে অবস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের এখন আর কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। জানা যায়, দখল করে গড়ে তোলা ওই অস্থায়ী কার্যালয়টি ২০২৪ সালেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে নগরের দোস্ত বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে নগরের ১২২ নম্বর আন্দরকিল্লায় থাকা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়েরও কোনো স্মৃতিচিহ্ন এখন আর নেই।

শুধু আওয়ামী লীগ নয়, নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের অফিসগুলোও বন্ধ রয়েছে।

আন্দরকিল্লা এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী দক্ষিণপূর্বকে জানান, ২০২৪ সালের পর থেকে সেখানে আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। পরে জায়গাটির প্রকৃত মালিক এসে দখল নিয়ে নেয়।

দোস্ত বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় একটি টেইলার্স দোকানের এক কর্মচারী বলেন, ‘এই ভবনে আওয়ামী লীগের একটি অফিস ছিল বলে শুনেছি। তবে কখনো দরজা খোলা দেখিনি। কিছুদিন আগে কয়েকজন এসে ঘুরে গেছে, এরপর আবার আগের মতোই বন্ধ রয়েছে।’চট্টগ্রাম জেলা, মহানগরের একাধিক নেতার মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলেও নাম্বার গুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত