বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

চট্টগ্রামে ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজান ও নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় পৃথক দুটি নির্মাণাধীন ট্যাংকে কাজ করতে নেমে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৬ জুন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটি পাড়া এলাকায় শুকলাল মাস্টারের বাড়ির মৃত কার্তিক দাশের নির্মাণাধীন ঘরের সেফটি ট্যাংকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের মৃত নিমাই দাশের ছেলে প্রদীপ দাশ (৩৮) এবং বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখীল ইউনিয়নের মৃত বিশ্বেশ্বর দাশের ছেলে সমীরণ দাশ (২৮)। প্রদীপ ছিলেন বাড়ির মালিকের মেয়ের স্বামী এবং সমীরণ ছিলেন বাড়ির মালিকের ভাগিনা। তাদের মধ্যে দুলাভাই-শালার সম্পর্ক ছিল।

[ad_OwixA1az]

আহত রাজমিস্ত্রী শাহ আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের শাশুড়ি মিনতি দাশ জানান, প্রায় দেড় মাস আগে নির্মাণ করা সেফটি ট্যাংকির ভেতরে কাজ করতে নেমেছিলেন রাজমিস্ত্রী শাহ আলম। কিছুক্ষণ পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্য প্রথমে প্রদীপ দাশ ট্যাংকিতে নামেন এবং শাহ আলমকে ওপরে তুলতে সক্ষম হন। তবে এরপর তিনি নিজেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে প্রদীপকে উদ্ধার করতে সমীরণ দাশ ট্যাংকিতে নামলেও তিনিও আর ওপরে উঠতে পারেননি। পরে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দুজনকে উদ্ধার করলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মিনতি দাশ জানান, সেফটি ট্যাংকির ভেতরে কিছু পানি জমে ছিল। কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তারা নিশ্চিত নন।

রাউজানের নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আনিসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রদীপ ও সমীরণকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে একই দিন দুপুর পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের পানির রিজার্ভ ট্যাংকে কাজ করতে নেমে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার উত্তর শূন্যকিয়া এলাকার আমিনুল হকের ছেলে সাকিব (২২) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৫)।

পুলিশ জানায়, নির্মাণাধীন ভবনের ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে প্রথমে সাকিব ভেতরে নামেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য হৃদয় মিয়াও ট্যাংকে নামেন। পরে দুজনই সেখানে আটকা পড়ে অচেতন হয়ে যান। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ডবলমুরিং থানার এসআই মানিক ঘোষ জানান, সাকিব ঘটনাস্থলেই মারা যান। হৃদয়কে জীবিত মনে হওয়ায় দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, পাঁচতলা ভবনটির দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ চলছিল। ভবনটির মালিক প্রবাসী নুরুল হুদা। প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেফটি ট্যাংক ও রিজার্ভ ট্যাংকের ভেতরে বাতাস চলাচল না করায় হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমে যায়। এতে অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়েন এবং একে একে উদ্ধার করতে নেমে অন্যরাও প্রাণ হারান। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত