রাজধানীর হজক্যাম্পে এক হজযাত্রীর কাছ থেকে চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়ালের ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) ও মো. নাদিম সরকার (৫৩)। একইসঙ্গে চুরি হওয়া রিয়ালের বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এখনো পলাতক রয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল হজক্যাম্পে এক হজযাত্রীর ২২ হাজার সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। এ ঘটনায় ডিএমপি বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়।

ঘটনার পর থেকেই সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (সিটি এসবি) জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের মতলব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জানা যায়, প্রধান সন্দেহভাজন হাবিবুর রহমান মতলব থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
পরে তাকে অনুসরণ করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, ডেমরার সারুলিয়া ও ৩০০ ফিট সড়ক অতিক্রম করে খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছে যৌথ অভিযান চালানো হয়। রাত ২টা ৪০ মিনিটে খিলক্ষেতের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে নাদিম নামে আরও এক সহযোগীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে নাদিমের তথ্য অনুযায়ী চুরির মূলহোতা আব্দুল মান্নানের বাসায় অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মেয়ের জামাইয়ের বাসা থেকে চুরি হওয়া ৫০০ রিয়ালের ৩৫টি নোট, অর্থাৎ মোট ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া, আসামিরা এরই মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৯০ হাজার টাকা আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
হজ ক্যাম্প থেকে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার এবং চোর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ১ মে, শুক্রবার বিকেলে আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, পলাতক আব্দুল মান্নানের অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এসএস



