শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান: বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ।

এর আগে ৯ মার্চ, সোমবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। দায়িত্ব পালন করেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি), র‍্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একযোগে চিরুনি অভিযান চালায় যৌথবাহিনী।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি এবং ১১টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাইপগান তৈরির একটি লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স ও দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা নজরদারি কার্যক্রমে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করত।

অভিযানে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়া ও বিভিন্ন প্রবেশপথে স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।

অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযান শেষে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‍্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত